Home রাজনীতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগরভবনে শ্রমিক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগরভবনে শ্রমিক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি

by News Desk
০ comment

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগরভবনে শ্রমিক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আজ দুপুর ১২টার দিকে ডিএসসিসির জাতীয়তাবাদী শ্রমিক সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নের দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে দুই গ্রুপের ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীও রয়েছেন।

এ ঘটনার পর বেলা ২টা বিশ মিনিটের দিকে বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন নগরভবনে আসেন। উত্তাল নগরভবনে পা রাখার পর উজ্জীবিত আন্দোলনকারীরা ‘শপথ শপথ শপথ চাই, ইশরাক ভাইয়ের শপথ চাই’, ‘মেয়র নিয়ে টালবাহানা, সহ্য করা হবে না’, ‘চলছে লড়াই চলবে, ইশরাক ভাই লড়বে’, ‘নগর পিতা ইশরাক ভাই, আমরা তোমার ভুলি নাই’ স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের স্লোগানে পুরো নগরভবন উত্তাল হয়ে ওঠে।

সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে নগরভবনে অবস্থান কর্মসূচি চলছে। টানা ১৫ দিন ধরে একই দাবিতে নগর ভবনের সামনে অবস্থান পালন করা হচ্ছে। ঢাকাবাসীর পাশাপাশি এখানকার কর্মচারীরাও এই কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এদিকে, স্লোগানে উত্তাল নগরভবনে ইশরাক হোসেনের আগমন ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দুপুর সোয়া ২টার দিকে নগরভবনে প্রবেশ করেন ইশরাক হোসেন। মূলত নেতাকর্মীদের সঙ্গ দিতে এবং তাদের খোঁজখবর নিতেই তিনি নগরভবনে এসেছেন।

তাদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নগরভবনের সামনে জমায়েত হতে থাকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ইশরাকের সমর্থকরা। সেই সঙ্গে এখানকার কর্মচারীরাও সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নগর ভবনে এসে জড়ো হতে থাকে। একই দাবিতে সকাল থেকে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন নগর ভবনের সর্বস্তরের কর্মচারী ইউনিয়ন। টানা ১৫ দিন ধরে নগর ভবনের প্রত্যেকটি ফটকেই তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। একই সঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন, ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কর্মচারী মোহন জানান, ‘আমাদের দাবি একটাই, ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিন, নইলে এই নগর ভবনের কোনো কাজও হচ্ছে না। আমরা কোনো কাজই করবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মেয়র ইশরাককে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কেউ কোনো কার্যক্রমে অংশ নেবো না।’

এদিকে, ঢাকাবাসীর সমন্বয়ক সাবেক সচিব মশিউর রহমান জানান, ‘এই আন্দোলন আমাদের যৌক্তিক। আমাদের দাবি একটাই, মেয়র ইশরাককে তার প্রাপ্য দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে। অন্তবর্তীকালীন সরকার এটা নিয়ে নাটক শুরু করেছে। আমরা কোনো নাটকের ধার ধারি না। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলতেই থাকবে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ গ্রুপ এবং শ্রমিক ইউনিয়নের প্রিন্স গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার পর আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রিন্স গ্রুপের প্রিন্স মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার মাথায় সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা।

You may also like

Leave a Comment