Home খেলা গত তিন বিশ্বকাপের দুটিতেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়েও মাহমুদউল্লাহর বড় অবদান।

গত তিন বিশ্বকাপের দুটিতেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়েও মাহমুদউল্লাহর বড় অবদান।

by mehedihasan71
০ comment

এক হাতে হেলমেট, অন্য হাতে ব্যাট। প্যাড জোড়া তখনো পায়ে। ঘামে জবজবে শরীর নিয়ে স্টেডিয়াম লাগোয়া নেট থেকে ড্রেসিংরুমের দিকে হেঁটে যাওয়ার পথে পরিচিত সাংবাদিকের ‘রিয়াদ ভাই’ ডাক শুনে থমকে দাঁড়ালেন মাহমুদউল্লাহ।

বাংলাদেশের নেটে সবচেয়ে লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করেছেন। এই গরমে এতক্ষণ ব্যাটিং করে ক্লান্তি আসারই কথা। মাহমুদউল্লাহকে দেখে তা বোঝার উপায় নেই। মুখে স্মিত হাসি। তাঁর ব্যাটিংয়ে যেমন অনায়াস একটা সাবলীলতা আছে, শরীরী ভাষাতেও যেন সেটির অনুবাদ। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, বিশ্বকাপের এই মহামঞ্চে আবার এসে দাঁড়াতে পেরেই তিনি কতটা খুশি!

মাহমুদউল্লাহর গল্পটা যেহেতু আপনার অজানা থাকার কথা নয়, বিশ্বকাপে আসতে পেরেই তাঁর খুশির কারণটাও বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন দেখছি না। জীবনের শেষ বিশ্বকাপটা পারফরম্যান্স দিয়ে রাঙিয়ে দিতে পারবেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে মাহমুদউল্লাহ সবচেয়ে বড় জয়টা তো পেয়ে গেছেন বিশ্বকাপে এসেই। যা শুধু তাঁর নিজের জয় হয়েই থাকছে না। আটকে থাকছে না ক্রিকেটের সীমানাতেও। তাতে যে মাহমুদউল্লাহর লড়াইয়ের গল্পটা প্রাপ্য মর্যাদা হারায়। গল্পটা যেহেতু ক্রিকেটের, আগামী দিনের ক্রিকেটাররা মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজবে, এটা তো খুবই স্বাভাবিক। একটু ভেবে দেখুন তো, অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে প্রতিকূলতার সামনে দাঁড়ানো মানুষের জন্যও কি এটি অনন্ত অনুপ্রেরণার উৎস নয়!

ক্যারিয়ার ব্যাটিং গড় ৩৫.৩৫, বিশ্বকাপে সেটি ৫১.৩৩। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাফল্যেও জড়িয়ে আছে তাঁর নাম। যে টুর্নামেন্টে তাঁর ব্যাটিং গড় ৬৮.৫০। গত তিন বিশ্বকাপের দুটিতেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়েও মাহমুদউল্লাহর বড় অবদান।
কী সেই অনুপ্রেরণা? যখন একে একে সব দুয়ার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, নিভে যাচ্ছে আশার আলো, তখনো হাল ছেড়ো না। মন দিয়ে নিজের কাজটা শুধু করে যাও। ওটাই তো শুধু তোমার হাতে আছে। তাতে কাজ হবে কি হবে না, সময়ই বলে দেবে। তুমি নিজে শুধু আশা হারিয়ো না।

মাহমুদউল্লাহ তো সেটাই করেছেন। বাংলাদেশ দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে অনেক আগেই। একসময় তা আর প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দল থেকে বাদই পড়ে গেছেন। যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য রোদে পোড়া কালকের দুপুরে মাহমুদউল্লাহর এমন নিজেকে নিংড়ে দেওয়া পরিশ্রম, গত মার্চে এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পরই মাহমুদউল্লাহর শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকে। ‘বিশ্রাম’-এর আবরণে আসলে তো বাদই দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সিরিজের পর সিরিজ দলে নেই। এদিকে এগিয়ে আসছে বিশ্বকাপ। তিন-চার মাস আগেও মাহমুদউল্লাহকে কজন এই বিশ্বকাপের দলে দেখেছিলেন, বলুন তো!

You may also like

Leave a Comment