প্রায় এক দশক পর ইতালীয় নাগরিক ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিসিও-বিডি’র কর্মকর্তা তাবেলা সিজার হত্যা মামলায় তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শেখ ছামেদুল ইসলামের আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- তামজিদ আহমেদ ওরফে রুবেল, রাসেল চৌধুরী, মিনহাজুল আরেফিন ওরফে ভাগনে রাসেল। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তিন জনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত।
এসময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার জনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। খালাস প্রপ্তরা হলেন- বিএনপি নেতা ও সাবেক কমিশনার এম. এ কাইয়ুম ও তার ভাই
আবদুল মতিন, শাখাওয়াত হোসেন শরিফ এবং মো. সোহেল ওরফে ভাঙ্গারি সোহেল।
এদিকে রায়ে অসন্তুষ্টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) বলেন, এদিন রায় উপলক্ষে কারাগারে থাকা চার আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের উপস্থিতি রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায়ে পলাতক এক আসামিসহ তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, এ সময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিএনপি নেতা বিএনপি নেতা এম. এ কাইয়ুম ও তার ভাই আবদুল মতিনসহ চার জনকে খালাস দেন আদালত। রায় শেষে সাজার পরোয়ানা দিয়ে তিন আসামিকে আবারো কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম ও এস. এম শওকত হোসেন মিঞা রায়ে অসন্তুষ্ট জানিয়ে বলেন, এ মামলায় ৪২ জন সাক্ষী কেউ আসামিদের নাম বলেনি। ভাঙ্গারি সোহেল নামে যে আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে তিনি অনেক আগেই মারা গেছেন। বিএনপি নেতা এম. এ কাইয়ুম- ও তার ভাই আবদুল মতিনকে রাজনৈতিকভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। রায়ে ন্যায় বিচার না পাওয়ায় উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।
মামলায় অভিযোগ, ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুলশান ৯০ নম্বর সড়কের পশ্চিম প্রান্তে গুলশান এভিনিউ সংলগ্ন গভর্নর হাউজের দক্ষিণের দেয়াল ঘেঁষা ফুটপাতে দুর্বৃত্তরা তাবেলা সিজারকে গুলি করে। ওই সময় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ইসলামিক স্টেট (আইএস) দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়।
ওই হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইসিসিও কো-অপারেশনের বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি হেলেন দার বিক বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করা হয়।
২০১৬ সালের ২৮ জুন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার এম এ কাইয়ুমসহ সাত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক গোলাম রাব্বানী। একই বছরে ২৪ আগস্ট তৎকালীন মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেন।
চার্জশিটভুক্ত অপর আসামিরা হলেন কাইয়ুমের ভাই আবদুল মতিন, তামজিদ আহমেদ ওরফে রুবেল, রাসেল চৌধুরী, মিনহাজুল আরেফিন ওরফে ভাগনে রাসেল, শাখাওয়াত হোসেন ও সোহেল।
আসামিদের মধ্যে তামজিদ আহমেদ, রাসেল চৌধুরী, মিনহাজুল, মতিন ও শাখাওয়াত আদালতে বিভিন্ন সময়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। চার্জশিটভুক্ত আসামি কাইয়ুম ও সোহেল পলাতক। মতিন জামিনে এবং বাকি চার আসামি কারাগারে রয়েছে।
মামলার চার্জশিট থেকে জানা যায়, হামলাকারীদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল একজন শ্বেতাঙ্গকে হত্যা করে দেশ-বিদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এই পরিকল্পনা করা হয়।